রোমিও
অ্যান্ড জুলিয়েট-এর কাহিনীকার হিসেবে
উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর নামটি জানা
থাকলেও আমাদের অনেকেরই হয়তো
জানা নেই যে, এর
কাহিনীটি অতি প্রাচীন এবং
শেক্সপিয়র এ কাহিনীটি ধার
করেছিলেন তাঁর থেকে প্রায়
৩০ বছর আগে লেখা
ইংরেজ লেখক আর্থার ব্রুকস্-এর দি ট্র্যাজিক্যাল
হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড
জুলিয়েট নামের একটি মহাকাব্যিক
রচনা থেকে।
কাহিনী
হিসেবে রোমিও-জুলিয়েটের ইতিহাস
শুধু এটুকুই নয়, বরং
তা সুদূর অতীত পর্যন্ত
বিস্তৃত। গবেষণায়
জানা যায়, রোমিও-জুলিয়েটের
এই সকরুণ প্রেমকাহিনী সংঘটিত
হয়েছিল ইতালিতে। সেখানে
এই প্রেমময় জীবন-গাঁথা উপাখ্যান
হিসেবে আনুমানিক ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ
পেলেও মূল কাহিনীটি সম্ভবত
১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের। আর
মূলকাহিনীতে দেখা যায়, প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল পরস্পর থেকে
বিচ্ছিন্ন হবার চেয়ে আত্মহত্যাকেই
শ্রেয় বলে মেনে নেয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইতালির এমন ঘটনার একশত বছর আগে প্রায় একই রকম আরেকটি কাহিনীর সন্ধান পাওয়া যায় স্পেনের তেরুয়েলে। অবশ্য স্প্যানিশ আখ্যানে এ কাহিনীর একটু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রোমিও সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছেন, আর জুলিয়েট সেই সময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বসেন এবং নতুন বিয়ে করা স্বামীর সাথে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর তার (জুলিয়েটের আগের) স্বামী এসে তাদেরকে একসঙ্গেই সমাহিত করেন।
গবেষক মনে করেন, স্পেনে সংঘটিত ওই প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের গল্পটা একসময় ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে তা কিংবদন্তীর আকার লাভ করে। সে কিংবদন্তীকে অবলম্বন করে ইতালির লেখক মাতিয়ো বান্দেলো একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে বান্দেলোর সে উপন্যাস থেকেই কাহিনী ধার করে ইংল্যান্ডের লেখক আর্থার ব্রুকস্ তাঁর মহাকাব্যিক রচনা দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট প্রকাশ করেন। তারও ত্রিশ বছর পরে আনুমানিক ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আর্থার ব্রুকস্-এর কাহিনী ধার করে শেক্সপিয়র বিখ্যাত ট্র্যাজেডি রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট রচনা করেন।
সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান নাটকটি লেখার আগ পর্যন্ত এ সব তথ্য আমার নিজেরও জানা ছিল না। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শেক্সপিয়রের আখ্যান নির্ভর এই নাট্য রচনার পর আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নিল, তার মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হলো — শেক্সপিয়রের অন্যান্য নাট্যাখ্যানের মতো এ আখ্যানটিকে নিয়েও বহুভাবে, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্চয় সারা পৃথিবীতে ব্যাপক নাট্যকর্ম সৃজিত হয়েছে, এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতায়, অজ্ঞানে পৃথিবীর অন্য কোনো নাট্যকারের নাট্যচিন্তা ও নাট্যকর্মের পুনর্বয়ান বা পুনর্নিমাণ করলাম না তো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণতর বিশ্বসাহিত্যের পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বনাট্য দর্শনে অভিজ্ঞ নাট্যনির্দেশক ও কাছের বন্ধুদেরকে নাটকটি পাঠ করতে দেই, সর্বোপরি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করি।
প্রায় সব ধরনের অনুসন্ধানের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো বর্তমান নাট্যকর্মের পক্ষে জোরালো কিছু যুক্তি এনে দেয়। কেননা, প্রাগৈতিহাসিক কালের রোমিও-জুলিয়েটের আসল কাহিনীকে ট্র্যাজেডি-নাট্যে রূপ দিতে মহাত্মা উইলিয়াম শেক্সপিয়র যা করেছিলেন তা সুচতুর একটি খেলা ছাড়া কিছু নয়, বর্তমান নাটকটি সে-কথাই প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলে দেশ-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধ গণ্ডীকে অতিক্রম করে শিল্পের সার্বজনীন ভূখণ্ড, সময় এবং চরিত্র সৃজন করেছি মাত্র। যা নাট্যচিন্তা প্রকাশের তীব্রতাকে বাড়িয়েছে বলে আমার ধারণা।
নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা নেবার প্রয়োজনে বর্তমান নাটক রচনায় ইউরোপীয় নাট্য রচনার গঠন-কৌশলকে সম্পূর্ণরূপে অবলম্বন না করা হলেও — এই নাট্যে ইউরোপীয় নাট্যাদর্শের মূখ্য বৈশিষ্ট্য ঘটনা অনুসন্ধানের সঙ্গে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শ মানুষের প্রেমময় জীবন সংকটের সামগ্রিক রূপ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় মানব চরিত্রের মহৎ বৈশিষ্ট্য হিসেবে লেখকের সূক্ষ্ম তৎপরতার কথা এবং সামাজিকভাবে নিজের প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তির অভিপ্রায়ে সেই একই লেখক কীভাবে গোপনে সংঘটিত নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকে সম্ভব ও সমর্থন করেন তা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন বিশ্বব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মচর্চাকারীর মিথ্যাচার ও সুবিধাবাদী আচরণকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ নাটকের ভাষারীতি ও চরিত্রাবলী সৃজনে, সর্বোপরি গঠন-কৌশলে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শ অনুসরণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় নাট্যরীতির ত্রি-ঐক্য (ইউনিটি অব টাইম, ইউনিটি অব স্পেস অ্যান্ড ইউনিটি অব অ্যাকশন) বিধানের পরিবর্তে এই নাটকে প্রাচ্যের নাট্য আদর্শের অনুসরণে সময়, চরিত্র ও তার অবস্থানের সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে। পাঠককে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই নাটকটি পাঠ করতে অনুরোধ করি। উল্লেখ্য, বর্তমান নাটকটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের এমএ ফাইনাল পরীক্ষার প্রযোজনা হিসাবে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের থিয়েটার ল্যাবে আব্দুল হালিম প্রামানিক সম্রাটের নির্দেশনায় ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩, ৪ ও ৫ মার্চ মঞ্চস্থ হয়েছিল
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইতালির এমন ঘটনার একশত বছর আগে প্রায় একই রকম আরেকটি কাহিনীর সন্ধান পাওয়া যায় স্পেনের তেরুয়েলে। অবশ্য স্প্যানিশ আখ্যানে এ কাহিনীর একটু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রোমিও সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছেন, আর জুলিয়েট সেই সময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বসেন এবং নতুন বিয়ে করা স্বামীর সাথে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর তার (জুলিয়েটের আগের) স্বামী এসে তাদেরকে একসঙ্গেই সমাহিত করেন।
গবেষক মনে করেন, স্পেনে সংঘটিত ওই প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের গল্পটা একসময় ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে তা কিংবদন্তীর আকার লাভ করে। সে কিংবদন্তীকে অবলম্বন করে ইতালির লেখক মাতিয়ো বান্দেলো একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে বান্দেলোর সে উপন্যাস থেকেই কাহিনী ধার করে ইংল্যান্ডের লেখক আর্থার ব্রুকস্ তাঁর মহাকাব্যিক রচনা দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট প্রকাশ করেন। তারও ত্রিশ বছর পরে আনুমানিক ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আর্থার ব্রুকস্-এর কাহিনী ধার করে শেক্সপিয়র বিখ্যাত ট্র্যাজেডি রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট রচনা করেন।
সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান নাটকটি লেখার আগ পর্যন্ত এ সব তথ্য আমার নিজেরও জানা ছিল না। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শেক্সপিয়রের আখ্যান নির্ভর এই নাট্য রচনার পর আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নিল, তার মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হলো — শেক্সপিয়রের অন্যান্য নাট্যাখ্যানের মতো এ আখ্যানটিকে নিয়েও বহুভাবে, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্চয় সারা পৃথিবীতে ব্যাপক নাট্যকর্ম সৃজিত হয়েছে, এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতায়, অজ্ঞানে পৃথিবীর অন্য কোনো নাট্যকারের নাট্যচিন্তা ও নাট্যকর্মের পুনর্বয়ান বা পুনর্নিমাণ করলাম না তো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণতর বিশ্বসাহিত্যের পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বনাট্য দর্শনে অভিজ্ঞ নাট্যনির্দেশক ও কাছের বন্ধুদেরকে নাটকটি পাঠ করতে দেই, সর্বোপরি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করি।
প্রায় সব ধরনের অনুসন্ধানের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো বর্তমান নাট্যকর্মের পক্ষে জোরালো কিছু যুক্তি এনে দেয়। কেননা, প্রাগৈতিহাসিক কালের রোমিও-জুলিয়েটের আসল কাহিনীকে ট্র্যাজেডি-নাট্যে রূপ দিতে মহাত্মা উইলিয়াম শেক্সপিয়র যা করেছিলেন তা সুচতুর একটি খেলা ছাড়া কিছু নয়, বর্তমান নাটকটি সে-কথাই প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলে দেশ-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধ গণ্ডীকে অতিক্রম করে শিল্পের সার্বজনীন ভূখণ্ড, সময় এবং চরিত্র সৃজন করেছি মাত্র। যা নাট্যচিন্তা প্রকাশের তীব্রতাকে বাড়িয়েছে বলে আমার ধারণা।
নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা নেবার প্রয়োজনে বর্তমান নাটক রচনায় ইউরোপীয় নাট্য রচনার গঠন-কৌশলকে সম্পূর্ণরূপে অবলম্বন না করা হলেও — এই নাট্যে ইউরোপীয় নাট্যাদর্শের মূখ্য বৈশিষ্ট্য ঘটনা অনুসন্ধানের সঙ্গে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শ মানুষের প্রেমময় জীবন সংকটের সামগ্রিক রূপ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় মানব চরিত্রের মহৎ বৈশিষ্ট্য হিসেবে লেখকের সূক্ষ্ম তৎপরতার কথা এবং সামাজিকভাবে নিজের প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তির অভিপ্রায়ে সেই একই লেখক কীভাবে গোপনে সংঘটিত নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকে সম্ভব ও সমর্থন করেন তা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন বিশ্বব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মচর্চাকারীর মিথ্যাচার ও সুবিধাবাদী আচরণকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ নাটকের ভাষারীতি ও চরিত্রাবলী সৃজনে, সর্বোপরি গঠন-কৌশলে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শ অনুসরণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় নাট্যরীতির ত্রি-ঐক্য (ইউনিটি অব টাইম, ইউনিটি অব স্পেস অ্যান্ড ইউনিটি অব অ্যাকশন) বিধানের পরিবর্তে এই নাটকে প্রাচ্যের নাট্য আদর্শের অনুসরণে সময়, চরিত্র ও তার অবস্থানের সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে। পাঠককে প্রাচ্যের নাট্যাদর্শের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই নাটকটি পাঠ করতে অনুরোধ করি। উল্লেখ্য, বর্তমান নাটকটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের এমএ ফাইনাল পরীক্ষার প্রযোজনা হিসাবে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের থিয়েটার ল্যাবে আব্দুল হালিম প্রামানিক সম্রাটের নির্দেশনায় ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩, ৪ ও ৫ মার্চ মঞ্চস্থ হয়েছিল

No comments:
Post a Comment