Friday, August 29, 2014

শিয়া সম্প্রদায় কি আসলেই মুসলমান?

ইসলাম একটি ধর্ম ও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামে নেই কোনও মত পার্থক্য ও বিভেদ। নির্দিষ্ট কোনও শ্রেণী বা গোত্রে বিভক্ত হওয়ার মাঝে কোনও কল্যাণ নেই। বিশ্বের সকল মুসলমানদের এক আল্লাহ ও রসূলের অনুসারে একটি সম্মিলিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিপ্রেক্ষিত ভিন্ন। বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মুসলমানদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানান মত-পার্থক্য। নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে মুসলমানরা আজ দ্বিধাগ্রস্ত। মুসলমানদের মধ্যে নানা দল--উপদল সৃষ্টির কারণ হিসেবে দায়ী করা যায়রাজনৈতিক মতবাদধর্মীয় মতবাদ ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে যে সকল দল-উপদল রয়েছে শিয়া সম্প্রদায় তাদের মধ্যে অন্যতম। তাই  আজকের আলোচ্য বিষয় শিয়াদের উত্থান ও তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে।

শিয়া মতবাদকি?
সাহাবায়ে কেরামের কাল থেকেই মুসলীম উম্মাহর মধ্যে শিয়ানামক একটা দল সৃষ্টি হয়ে মুসলীম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে রেখেছে। মৌলিকভাবে শিয়া একটি বিভ্রান্ত দলের নাম। এদের মধ্যে অনেক দল-উপদল রয়েছে। প্রথমদিকে এ ফেরকাটি সৃষ্টির পেছনের কারণ রাজনৈতিক হলেও পরবর্তীতে ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাসের ঠিক বিপরীত ধ্যান-ধারণা দ্বারা প্রচারিত হয়েছে। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর শাসনামলে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইয়েমেনের এক ইহুদী পণ্ডীত মুসলমানদের ছদ্মবেশে মদিনায় এসে মুসলমানদের মধ্যে দলাদলীর সৃষ্টি করে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর আবদুল্লাহ ইবনে সাবার দলটিই শিয়া আন্দোলনকেএকটি ধর্মীয় ফেরকায় রূপান্তর করে। শিয়া মতবাদহলো মূলতঃ ইহুদী মতবাদের দ্বিতীয় সংস্করন। ইসলামের প্রতি এক বিদ্বেষী মতবাদের নামই হলো শিয়া মতবাদ। শিয়া আকিদা যদি সত্যি হয় তবে ইসলাম হবে মিথ্যা। আর ইসলাম যদি সত্যি হয় তবে শিয়া মতাদর্শের বাতুলতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই।
শিয়া মতবাদউৎপত্তির মূলে
শিয়ানে আলী বা আলী (রাঃ)এর প্রতি নিবেদিত প্রাণদের দলটি ছিল শুরুতে একটি রাজনৈতিক মতভেদ মাত্র। হযরত রাসূলে কারীম (সাঃ)এর ওফাতের পর মুসলমানদের খলিফা কে হবেন , তা নিয়ে সৃষ্ট মতভেদ থেকে ক্ষুদ্র একটি দল হযরত আলী (রাঃ)কে খেলাফতের বৈধ উত্তরাধীকারী এবং তাঁর পূরববর্তী তিন খলিফাকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বলে মনে করতো। এ ভিন্নমতটিই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সীমা অতিক্রম করে ধর্মীয় আঁকার ধারণ করে। শিয়া মতবাদহযরত(সাঃ)এর ওফাত দিবস থেকেই নবীর সহিত উম্মতের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাতে এবং দ্বীনের মূলোৎপাঠনে স্বচেষ্ঠ। ফলে ইসলামের মোকাবেলায় ইহুদী কর্তৃক শিয়া ধর্মের উৎপত্তি ঘটে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল ইহুদী ষড়যন্ত্র। এরপর হযরত আলী(রাঃ)এর ওফাত। এরপর শিয়া ধর্মের উৎপত্তি। ইহুদী পণ্ডীত আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীর চিন্তা-চেতনার আলোকেই এই শিয়া মতবাদএর উৎপত্তি।
ইসলামের চিরশত্রু এ ফিৎনা সৃষ্টিকারী ইহুদীদের মূলনায়ক মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদী এবং তার মদদপুষ্টরা ইসলামের প্রবাহমান স্রোতধারাকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে এবং মুসলীম ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে দেয়ার নিমিত্তে হযরত আলী(রাঃ)এর প্রেমে মুগ্ধ হবার রূপ দিয়ে শিয়া ফেরকার ভিত্তি স্থাপিত হয়।
শিয়া মতবাদএর ভিত্তি রচনাকারী মূল নায়কের পরিচয়
শিয়া মতবাদএর মূল উদগাতা ছিল ইহুদী তাত্বিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদী। ইয়েমেনের অধিবাসী এ ধূর্ত লোকটি তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর শাসনামলে মদীনায় আগমন করে নিজেকে একজন নিষ্টাবান মুসলমান রূপে প্রকাশ করে খলিফার নৈকট্য প্রাপ্তদের মধ্যে স্থান করে নিতে স্বচেষ্ঠ হয়। কিন্তু, উসমান(রাঃ) তার গতিবিধি দেখে সন্দিহান হয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এ ব্যক্তিই পরে এমন একটি বক্তব্য দাঁড় করায় যে , হযরত নবী করীম(সাঃ)এর পর তাঁর বৈধ উত্তরাধীকারী ছিলেন হযরত আলী(রাঃ)। কিন্তু, চক্রান্ত করে তাঁকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যক্তি হযরত উসমান(রাঃ)এর বিরুদ্ধেও নানা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে থাকে। ফলশ্রতিতে হযরত উসমান(রাঃ) দুষ্কৃতকারীর হাতে শাহাদত বরণ করেন। আর এ আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীই প্রথম ব্যক্তি যে প্রচার করেছিল যে , হযরত আলী(রাঃ) মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আবার ফিরে আসবেন। শুধু কদিনের জন্য একটি পর্বতের অপর প্রান্তে লুকানো অবস্থায় থাকবেন। তার এ চিন্তা-চেতনায় নির্ভর করে মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টির স্থায়ী রূপ দেয়া হলো তাও ইহুদীদের হাতে। ১০ই মুহররম শিয়া মতবাদএর জন্ম হয়।
সবশেষে বলতে হয়, শিয়ারা একটা বিভ্রান্ত ফেরকা। এদের অধিকাংশই কাফের। প্রাথমিক অবস্থায় রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বৃহত্তর মুসলীম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে আকিদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও বড় ধরণের বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে তারা মিল্লাতে ইসলামিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
 বিঃদ্রঃ এই ব্লগ এর সব পোস্ট পেতে ফেসবুকে আমাদের সাথে জয়েন করুন। জয়েন করতে নিচের লিঙ্কে যানঃ