![]() |
| Steroid!!! It's a magic drug. Because it's a life saving drug along with lots of side effects!!! |
২০০৯ সাল। তখন আমি ইন্টারমিডিয়েট পড়তাম। তখন
আমার স্বাস্থ্যের খুবই করুন অবস্থা ছিল। আমার উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি আর ওজন
ছিল মাত্র ৫০-৫৫ কেজি। এমনকি অনার্স ফাস্ট ইয়ারেও আমার স্বাস্থ্যের কোন উন্নতি ঘটে
নাই। আমার এই অবস্থার একটা সত্য গল্প বলি। অনার্স ফাস্ট সেমিস্টারে আরিফ স্যার
আমাদের অর্গানিক কেমিস্ট্রি ক্লাস নিত। প্রথম ক্লাসে সবাইকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস
করছে কে কি করতে পছন্দ করে? যখন আমার কাছে আসলো, তখন আমি বললাম খেলাধূলা করতে ভালো
লাগে। স্যার বলল কি খেলা? আমি বললাম, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল......... স্যার বলল
থামো। তোমার যে শরীর, তুমি তো বাতাসের আগে পড়ে যাবা খেলবা কখন? তাহলে বোঝেন আমার
কি অবস্থা ছিল? আপনারা হয়ত ভাবছেন আমি এগুলো কেন বলছি? সব কিছুরই একটা ভূমিকা
থাকে। আমার আজকের লেখার এটাই ভূমিকা। আমি মূলত আজ স্টেরয়েড ওষুধ নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা
করবো। মূল লেখা শুরুর আগে আমার বর্তমান অবস্থাটা আপনাদের বলে নেই। আমার বর্তমান
উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। ওজন ৮৫ কেজি। বিএমআই ২৬। তার মানে আমি এখন মোটেও আর আগের মত চিকনা না, মোটা মানুষ। যারা
আমাকে আগে (২০১১) এবং এখন দেখেছেন তারাই কেবল অনুধাবন করতে পারবে আমি ফিজিক্যালি
কতটা চেঞ্জ হয়েছি। আমার এই চেঞ্জ দেখে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছে আমি পাম বড়ি (স্টেরয়েড)
খেয়েছি কিনা? আমি বলতাম না। কিন্তু তারা
বিশ্বাস করত না। তারা আমার কাছে ইনিয়ে বিনিয়ে ওষুধের নাম জানতে চাইতো। আমি তাদের
বুঝাতাম স্টেরয়েড নিলে কি হয়। আমাদের সমাজে এই শ্রেনীর লোকের অভাব নাই। মূলত তাদের
জন্যই আজকের লেখা।
স্বাস্থ্য ভাল করার
জন্য অনেকে স্টেরয়েড বা পাম বড়ি খেয়ে থাকে। এছাড়াও
অনেক মেয়ে সুন্দর শারীরিক গঠনের জন্যও স্টেরয়েড নিয়ে থাকে। আসলে স্বাস্থ্য ভাল করার জন্য কোন ওষুধ লাগে না।
আর আপনি স্টেরন নামের
যে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ চান সেটা তো খাওয়াই
যাবে না। কারণ স্টেরয়েড কি সেটা আগে আপনাকে জানতে হবে,
বুঝতে হবে। স্টেরয়েড খুবই জটিল রোগের চিকিৎসায় অল্প দিনের জন্য খেতে বলা হয় এবং
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া এর মাত্রা নির্নয় করা উচিৎ নয়। এজন্য স্টেরয়েডকে লাইফ সেভিং ড্রাগ বলা হয়। অ্যালার্জি, হাঁপানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম
আর্থ্রাইটিস রোগে প্রায়ই ব্যবহূত হয় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ। এ ছাড়া হঠাৎ অজ্ঞান হলে
কিংবা রক্তচাপ কমে গেলেও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয় এই স্টেরয়েড।
করটিসন, হাইড্রোকরটিসন, প্রেডনিসলন, ডেক্সামিথাসন ইত্যাদি বিভিন্ন নামে স্টেরয়েড ট্যাবলেট, ক্রিম-অয়েন্টমেন্ট, ইনজেকশন, ইনহেলার রয়েছে। বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসকেরা এসব ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে
দিয়ে থাকেন। কিন্তু বহুরোগ উপশমকারী এবং জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধের বহু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রায়ই দেখা যায় যে সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শের
অভাবে স্টেরয়েড ব্যবহারকারী রোগীরা বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হন।
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়, উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, রক্তে শর্করা বাড়ে।
- মুখ, গলা, ঘাড়, বুকে-পেটে চর্বি জমে।
- হাত-পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে আসে এবং পেশির দুর্বলতা দেখা দেয়।
- গ্লুকোমার অবনতি বা চোখের ছানিজনিত দৃষ্টিশক্তির অবনতি ঘটে।
- বিষণ্নতা, কখনো বা অস্থিরতা এবং ঘন ঘন মেজাজের তারতম্য ঘটে।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বারবার সংক্রমণ হয়।
- কাটা-ছেঁড়া বা ক্ষত সারতে দেরি হয়।
- হাড়ের ঘনত্ব কমে ও অস্টিওপেরোসিস হয়ে সহজে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- মেয়েদের মাসিকের জটিলতা, মুখে বা শরীরে অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধি।
- চুল পড়া বাড়ে, ত্বক পাতলা হয়ে যায়, তলপেটে ফাটা দাগ হয়, ব্রণও বেশি হয়।
তাই
স্টেরয়েড সেবনের আগে স্টেরয়েড সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন, বুঝুন। তারপরও যদি কেউ মোটা হওয়ার জন্য ওষুধ খেতে চান আপনি একজন মেডিসিন ডাক্তার দেখিয়ে রুচি বাড়ার ওষুধ খেতে পারেন। আর হ্যাঁ, হারবাল চিকিৎসা এড়িয়ে চলুন, কেননা এরাও স্টেরয়েড মেশানো ওষুধ দিয়ে মানুষকে অল্প দিনে মোটা করে
থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বিঃদ্রঃ এই ব্লগ এর সব পোস্ট পেতে ফেসবুকে আমাদের সাথে জয়েন করুন। জয়েন করতে নিচের লিঙ্কে যানঃ
তথ্যসূত্রঃ
